প্রিন্সিপালের বানী

মানব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে শিক্ষা। যে শিক্ষা মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুনাগরিক তৈরি করে না, তাকে আমরা প্রকৃত শিক্ষা বলতে পারি না। তাই তো এই শিক্ষার আলো ছড়াতে তৎকালীন যুক্তবঙ্গের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তি, ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গীয় কৃষি ও শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ঐতিহ্যবাহী ধনবাড়ীর প্রখ্যাত জমিদার (বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর দাদা) নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর বাড়ির আঙ্গিনায় ধনবাড়ী উপজেলা সদরে ১৯৯১ সালে সৈয়দা আশিকা আকবর (সাবেক এমপি) নারী শিক্ষা সম্প্রসারণকল্পে 'আসিয়া হাসান আলী মহিলা কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, একদল উদ্যমী শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ১৯৯১ সাল থেকে সম্পূর্ণ রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত এই ডিগ্রি কলেজটি পরিচালিত হয়ে আসছে। মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষার ভূমিকাই মুখ্য। শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সমাজ সচেতন ও দায়িত্বশীল আদর্শ নাগরিক তৈরিতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই শিক্ষা হতে হবে অবশ্যই সুশিক্ষা ও বাস্তবমুখী। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সুশিক্ষা কখনোই অর্জন করা সম্ভব নয়। এই তিন শক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সুশিক্ষা লাভ করে অনায়াসেই আমাদের সমাজে আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছেন এমন একদল আদর্শ শিক্ষক-শিক্ষিকা যাঁরা নিবেদিতপ্রাণ ও কর্মচঞ্চল। শিক্ষার্থীরা তাঁদের সংস্পর্শে এসে খুব সহজেই সঠিক পথের সন্ধান লাভ করতে পারে, খুঁজে পেতে পারে নিজেদের সঠিক ঠিকানা। সামগ্রিক বিচারে আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ হচ্ছে দেশের একটি আদর্শ শিক্ষালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করে সাফল্য লাভ করা। আমাদের প্রত্যাশা—এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে এই শিক্ষালয়টি হয়ে উঠবে একবিংশ শতাব্দীর এমন এক আদর্শ ও আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা পূর্ণ নিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের মধ্য দিয়ে নিজেদের বিকশিত করার পরিপূর্ণ সুযোগ পাবে এবং নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। পরিশেষে কলেজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।